দেশী রান্না, মজা বেশী, বলে গেছেন, রাম সন্ন্যাসী!

“আজকে কি খাইলা?”
“চিকেন সুপ আর বারিটো, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এইগুলোই খাই.”
“ভাত-ডাল-মাছ এইগুলো খাওয়া হয়না?”

দুই মহাদেশ দূরে বসে মায়ের সাথে স্কাইপ ভিডিও কথা হচ্ছে। খেয়াল করলাম, আসলেই, গত ২ মাসে মনে হয় আমাদের বাসায় ডাল রান্না হয় নাই, মনটা একটু বিক্ষিপ্ত হল, ভাবলাম, নাহ ডাল ভাত মিস করছি। ভাবলাম, বানিয়েই ফেলি! ফ্রিজে কিছু ভালো চিংড়ি মাছ আছে, শাহাদত উদরাজী স্টাইলে টমেটো কারী করে ফেলবো নাকি?

এই একটা ব্লগার শাহাদত উদরাজী, তাঁর ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে লেখন শুধু রান্না-বান্না নিয়েই—কী যে এক যাদুর বাঁধনে বেঁধেছেন আমাকে! লেখার বিষয় খাওয়া দাওয়া, কিন্তু সেটার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয় আমার চিরচেনা বাংলাদেশ, রান্নার সাথে সাথে টুকটাক গল্পে বলেন তার পরিবারের কথা, দেশের বাড়ির কথা, চাকরীর কথা, হতাশার কথা আর খুশীর কথা–রান্না করে খুশী, বাজারে ভালো মাছ কিনে খুশী, স্বশুরবাড়ি থেকে খাবার পেয়ে খুশী,—মিলিয়ে দেখি, আরে, এতো আমার সেই বাপ চাচা ভাইয়েরই ছায়া যেন! ফেসবুকে বন্ধুবান্ধব, বাপ-মায়েরা সাথে স্কাইপ কল, এগুলোর সাথে সাথে, তার এই ব্লগটাও আমাকে জড়িয়ে রাখে দেশের সাথে।

যাই হোক, ওনার ব্লগে নতুন টমেটো চিংড়ির রেসিপি পড়েছে দেখলাম, সেটা নাকি আবার তার সেরা রান্নাগুলার একটা। আর এদিকে আমার বৌকে জোর করেই ইন্ডিয়ান স্টোর পাঠিয়েছিলাম কিছু মাছ আনার জন্য। সেটা তিনি পাননি, এবং বাসায় এসে তাকে খামোখা ঘোরানোর জন্য বেশ কিছুক্ষণ রাগারাগি করলেন (কিন্তু এদিকে নিজেই মনে করে আমার প্রিয় সব্জী করলা আর সজনেডাঁটা নিয়ে এসেছেন 🙂 ) সেই ভালবাসার করলা আর সজনেডাঁটা দিয়েই বানিয়ে ফেললাম পুরো ৩ পদের রাজকীয় দেশী খানা:
করলা আলু ভাজি,
2013-02-23 06.17.18

চিংড়ি টমেটো ভুনা
2013-02-23 06.14.43

টমেটো, লেবু আর শজনে ডাঁটা দিয়ে ডাল
2013-02-23 06.14.37

চিংড়ি রান্নার পর ঘ্রাণ নিয়ে বুঝলাম, অবিকল আমার মায়ের রান্না চিংড়ির গন্ধ পাচ্ছি!

আমি কিন্তু খুব ভালো রান্না পারি, নিওপলিটান আর নিউইয়র্ক পিৎসা, বারিটো, থাই রেড কারি, দম বিরিয়ানী থেকে শুরু করে ফোকাচ্চা ব্রেড, রিয়েল চাইনিজ স্টার ফ্রাই, এসবে আমার মারাত্মক দখল। কিন্তু সাত সমুদ্দুর ঘুরে এসে, আমাকে আমার মায়ের সেই রান্না করতে শেখালেন এই শাহাদাত উদরাজী।

উদরাজী ভাই, আপনি আমার মনথেকে সালাম করলাম। ভালো থাকবেন।

2013-02-23 06.19.49

Advertisements

13 thoughts on “দেশী রান্না, মজা বেশী, বলে গেছেন, রাম সন্ন্যাসী!

  1. সাহাদাত উদরাজী

    হা হা হা…। এত মজা করে রান্না করলেন! এটা ছবি না দেখলে বোঝা যেত না। আপনি ভাল রান্না করতে পারেন এটা আমি আগেই বুঝতে পারতাম। আমি নিজে এখনো শিখছি।
    আপনি মাঝে মাঝে লিখে এভাবে একটা সাইট চালু করতে পারেন।

    (এই পোষ্টটা আমার সাইটে রি ব্লগিং করে দিলাম, আপনার অনুমতি ছাড়াই! সেখানে আরো কথা চলবে আমাদের।)

    আপনার প্লেট আর বাটি দেখে আমার ব্যাটারী জানলেন, এই যে আমাদের প্লেট আর বাটি, বিদেশ গেল কি করে? (তিনি পাশে বসে আছেন)

    বেশ আনন্দিত হলাম। আমাদের চেষ্টা চলুক। দেশী রান্না, মজা বেশী, বলে গেছেন, রাম সন্ন্যাসী! – এর উপরে আর কোন কথা চলে না।

    শুভেচ্ছা থাকলো আপনাদের জন্য।

    Reply
    1. adnanroni Post author

      প্লেট আর বাটি, সেটার ইতিহাস একেবারে জগাখুচুড়ি! কিছু প্লেট-বাটি আমি সাথে করে এনেছি (বিয়ের গিফট হিসেবে পাওয়া, আমি বিয়ের কয়েক মাস পরেই বাইরে আসি), আমার স্ত্রী আসার সময় কিছু নিয়ে আসেন, আর কিছু কেনা, আর কিছু এখানকার মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া! যেসব ছাত্র এখান থেকে পাশ করে চলে যান, তাদের রান্নার সরঞ্জাম কেমন করে জানি আমাদের বাসায় চলে আসে :D।

      বাটিটা মনে হচ্ছে এখানে কেনা, আর প্লেট টা সম্ভবত আমিই এনেছি। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      Reply
      1. সাহাদাত উদরাজী

        হা হা হা, আপনি দেখছি আমার মতই, মুখে কিছু আটকায় না! হা হা হা…
        এই তো জীবন! আমাদের একটা বিরাট সেট আছে এবং সেটার প্লেট সেটটা এমনি। আমি কখনো এইসবের খেয়াল রাখি নাই, রান্না শিখতে এসে এখন প্লেট বাটির কদর করতে শিখেছি! মাঝে মাঝে এখন হাসি এসে যায়, ইস আরো আগে যদি রান্নায় আগ্রহী হতাম, হয়ত আরো বেশী বেশী ইয়ে পেতাম! কত কিছু জমিয়ে ফেলতে পারতাম! আমার মায়ের ও স্ত্রীর হাড়ি কালেকশন দেখে আমি আগে হাসতাম, এখন মনে হয় এই জামানোর মাঝেও একটা আনন্দ আছে। আমাদের বাসায় আগে প্রচুর মেহমান আসত, এখন আর তেমন নেই! বড় হাড়ির প্রয়োজন আছেই।

        চলুক।

    1. adnanroni Post author

      অনেক অনেক ধন্যবাদ উদরাজী ভাই,এই সম্মানটা পেয়ে খুব ভালো লাগলো। এদিক ওদিক আরো কিছু রান্নার পোস্ট ছড়িয়ে আছে, দেখি সময় পেলে এখানে আনবো, নতুন পোস্ট দেওয়ারো ইচ্ছা আছে।

      ভালো থাকবেন।

      Reply
      1. সাহাদাত উদরাজী

        এইতো একটা কথার মত কথা হল! মাঝে মাঝে প্রবাসের অভিজ্ঞতার কথাও সাজিয়ে আমাদের জানতে দিন! আশা করছি, আমাদের প্রচেষ্টা চলবে।

  2. tashfiqa

    উফফ!আমারে কেউ এগুলো রান্না করে খাওয়াইলে না মজাটা ভালো করে বুঝতাম।ইন ফ্যাক্ট,ডালের বাটিটাও আমার পসন্দ হইসে।

    Reply
    1. adnanroni Post author

      হাহাহা, তা ঠিক, তবে প্রিয়জনের জন্য রান্না করাটাও বেশ ভালো লাগে। দেশে থাকতে মায়ের হাতের এই অমৃতগুলো এমনিতেই পেতাম, এখন ঠেকায় পড়ে নিজেই করছি 🙂 মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ!

      Reply
  3. সুরঞ্জনা

    বাহ! বেশ ভালোই তো রান্না পারেন। ডাল মিনিট দশেক ভিজিয়ে ভালো করে ধুয়ে একটি কড়াই বা হাড়িতে নিন, অল্প হলুদ, লবন, পেঁয়াজকুচি, ৩/৪টা কাঁচামরিচ, ১টা টমেটো কুচি, অল্প তেল দিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। ঁডালের উপর অল্প পানি থাকে এমন পানি দিন। চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিন। পানি শুখিয়ে মাখা মাখা হয়ে এলে ধনেপাতা দিয়ে নামিয়ে নিবেন।

    Reply
    1. adnanroni Post author

      ধন্যবাদ! আপনার এই রান্নটা আমার স্ত্রী করেন, উনি বলেন “ডাল চচ্চড়ি”, কম সময়ে বেশ সুস্বাদু জিনিস দাঁড়ায়। তবে এটা টমেটো দিয়ে করা হয় নি কখনো, আপনাকে ধন্যবাদ, পরের বার টমেটো দিয়ে করে দেখবো।

      Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s